মার্কিন শাটডাউন অবসানের ঘোষণায় আবার ঊর্ধ্বমুখী এশিয়ার শেয়ারবাজার

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থায়ন বিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবসান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম শাটডাউনের।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থায়ন বিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবসান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম শাটডাউনের। দেশটিতে সরকারি কার্যক্রম পুনরায় সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোবলও ফিরে এসেছে। গতকাল এর প্রতিফলন দেখা গেছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এরই প্রভাব দেখা যাচ্ছে এশিয়ার শেয়ার সূচকগুলোয়। খবর এপি ও এফটি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন অর্থায়ন বিল স্বাক্ষরের পর ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলো প্রায় রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থায় স্থিতিশীল থাকতে দেখা গেছে। ফিউচার সূচকগুলোও কিছুটা বেড়েছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার বেশির ভাগ সূচক বেড়েছে।

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে গত বুধবার রাতে ২২২-২০৯ ভোটে অর্থায়ন বিলটি অনুমোদিত হয়। এর আগে সোমবার সিনেটেও এটি পাস হয়। বিলটিতে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত মার্কিন সরকারের অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

৪৩ দিন ধরে অচলাবস্থায় চলায় বেতন পাননি যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী। সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়ে। বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘শাটডাউন শুধু সরকারি ব্যয় নয়, অনেক অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশও আটকে দিয়েছিল। তবে বাজারের জন্য একটাই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ, আলো আবার জ্বলে উঠছে।’

জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক গতকাল বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। তবে প্রযুক্তি জায়ান্ট সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ারদর কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বুধবার সফটব্যাংক জানিয়েছিল, চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে তারা। এর ঘোষণার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে শেয়ারদরে।

হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক গতকাল দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট সূচক বেড়েছে দশমিক ৭ শতাংশ। এর মাধ্যমে দুদিনের নিম্নমুখিতা কাটিয়ে উঠেছে বাজার সূচকটি। দেশটির ব্লু-চিপ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

তবে গতকাল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, সূচকটি টানা তৃতীয় দিনের মতো পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। মূলত অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর পতনের এ ধারা দেখা যাচ্ছে। কারণ পূর্বাভাসের তুলনায় কর্মসংস্থান বেশি হওয়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার কমানোর সম্ভাবনাও কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কিছুটা কম।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি, তাইওয়ানে তাইএক্স ও ভারতের সেনসেক্স সূচক বেড়েছে যথাক্রমে দশমিক ৬, দশমিক ২ ও দশমিক ৩ শতাংশে।

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে যায়। ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও নাসডাক কম্পোজিট সূচক কমেছে প্রায় দশমিক ৩ শতাংশ।

ছয় সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছিলেন, স্বাস্থ্যখাতে ট্যাক্স ক্রেডিট কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করলে তারা সরকারি কার্যক্রম পুনরায় চালুর পক্ষে ভোট দেবেন। অবশ্য নতুন চুক্তিতে সেই ক্রেডিট পুনর্বহালের নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। বরং এ বিষয়ে আগামী মাসে ভোটের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

এ শাটডাউন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঘটে যাওয়া ৩৫ দিনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি অচলাবস্থার কারণে কয়েক লাখ ফেডারেল কর্মচারী বেতন ছাড়াই ছিলেন। স্বল্প আয়ের মার্কিনদের জন্য ভোগ্যপণ্যের সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়, যার ওপর চার কোটির বেশি মানুষ নির্ভরশীল। অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য প্রকাশ বন্ধ থাকায় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। বেসরকারি তথ্যের পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন ও পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

শাটডাউন শেষ হওয়ার পর উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় ওয়াল স্ট্রিটে এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে তীব্র উত্থান দেখা যায়। তবে বাজারের ঊর্ধ্বগতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে চিপ নির্মাতা অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসের (এএমডি) শেয়ারদরে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী লিসা সু জানিয়েছেন, তিন-পাঁচ বছরে কোম্পানির আয় বার্ষিক গড়ে ৩৫ শতাংশ বেশি হারে বাড়তে পারে। প্রবৃদ্ধির এ ধারায় প্রধান ভূমিকা রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।

অবশ্য এআই-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর সম্প্রতি অস্থির হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা প্রশ্ন তুলছেন, এমন উল্লম্ফনের পর এগুলোর দর আর কতটা বাড়তে পারে।

শ্রমবাজারের দুর্বলতা ও মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ওপরে থাকা সত্ত্বেও এআই কোম্পানিগুলোর সাফল্যই মূলত মার্কিন বাজারকে রেকর্ড পর্যায়ে তুলেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ উত্থান ২০০০ সালের ডটকম বাবলের পুনরাবৃত্তির মতো, যা এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচককে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছিল।

চলতি মাসে এনভিডিয়ার শেয়ারদর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। আরেকটি জনপ্রিয় এআই কোম্পানি প্যালান্টির টেকনোলজিস গত বুধবার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ দর হারায়, যা দিনের অন্যতম বড় পতন।

আরও